0341-2281228 , (+91) 9734615831 , (+91) 6295535516
“শতবর্ষের আলোকে হেমন্ত মুখোপাধ্যায়”

“শতবর্ষের আলোকে হেমন্ত মুখোপাধ্যায়”

মুক্তিযুদ্ধের গান মানেই তোমার কণ্ঠে,
“মা গো ভাবনা কেন,
আমরা শান্তিপ্রিয় শান্তছেলে,
আমরা আকাশ থেকে বজ্র হ’য়ে ঝরতে জানি,
তোমার ভয় নেই মা
আমরা প্রতিবাদ করতে জানি।”

যেনো তুমিই প্রত্যক্ষ ডাকহরকরা,
তোমার কাঁধে জানা অজানার বোঝা,
নিঝুম রাতে, তোমার জীবনের স্বপ্নকে পিছনে ফেলে, সবেগে হরিণের মতো ছুটে চলেছ। তোমার ক্লান্ত শ্বাস ছুঁয়েছে আকাশ, তোমার ঘামে মাটি ভিজিয়ে, জীবনকে স্বল্প দামে বিকিয়ে, ভবিষ্যতের উন্নতির নতুন খবর পৌঁছে দিয়েছ, সূর্যোদয়ের আগে। আর তোমার ভালোবাসা? একাকিনী সমস্ত দুঃখ, বেদনা, অনুরাগ, অভিমান সাথে নিয়ে প্রতিটি বিনিদ্র রাত যাপন করেছে।

আবার কখনও এই তুমিই বিশ্ব প্রেমিকের ভূমিকায় দরাজ কণ্ঠে গেয়েছ,
“এই রাত তোমার আমার,
এই রাত শুধু এ গানের,
এই ক্ষণ এ দুটি প্রাণের,
কুহু কূজনে।
তুমি আছ আমি আছি তাই,
অনুভবে তোমারে যে পাই।”

কখনো বা, যেনো অন্তরের কথা গানে গানে শুনিয়েছ তোমার প্রিয়াকে,
“আমি দূর হতে তোমারেই দেখেছি,
আর মুগ্ধ এচোখে চেয়ে থেকেছি।”
আথবা
“এ পথ যদি না শেষ হয়,
তবে কেমন হতো, তুমি বলতো,
যদি পৃথিবীটা স্বপ্নের দেশ হয়,
নীল আকাশের ওই দূর সীমা ছাড়িয়ে,
এই গান যেনো যায় হারিয়ে,
প্রাণে যেনো এগানের রেশ রয়।”

প্রকৃতির সাথে কথা বলতে তোমার জুড়ি মেলা ভার। যখন শুনি,
“ও নদীরে, একটি কথা শুধাই শুধু তোমারে।”
কিংবা
“এ আকাশ সোনা সোনা,
এ মাটি সবুজ সবুজ।”
সত্যিই মনেহয় মহাকাশের নিচে, নির্জন নিভৃতে, অজানা নদীর পাশদিয়ে, দূর্বাঘাসের ওপর দিয়ে চলেছি অনন্তের পথে। তুমি
“সুরের আকাশে তুমি ধ্রুব তারা।”

কখনো ফিরে পাই সেই ছোট্ট বেলা, তোমার গানে।
“গল্প শোনার দিনগুলো
এখন কতো দূরে,
আজ আসেনা রাজার কুমার,
পক্ষীরাজে উড়ে। “

অভিমান, বিরহ তোমাকে স্পর্শ করলে-ও সেই গানেও শ্রোতাদের মন মুগ্ধ করে চলেছে আজও।
“সে যেন আসেনা আমার দ্বারে,
তারে ব’লে দিও,
ওই গুনগুন সুরে মন হাসে না।”
অন্যদিকে
“আমিও পথের মতো হারিয়ে যাবো,
আমিও নদীর মতো আসবনা ফিরে,
আসবনা ফিরে আর কোনদিন।”
তুমি সবার অন্তরে চিরদিন থাকবে।

Close Menu